জাপান : কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা
সামলে উঠছেন জাপানের ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ীরা। কোভিডের
পর প্রথমবারের মতো গত বছরের
তৃতীয় প্রান্তিক থেকে স্থানীয় বাজারে
মুনাফা করেছেন দেশটির খুচরা
ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বাজারসংশ্লিষ্টরা
মনে করেন, জাপানের অভ্যন্তরীণ
পর্যটন খাত পুনরুদ্ধার হওয়ায়
দেশটির স্থানীয় বাজারে ফিরে এসেছে
স্থিতিশীল পরিবেশ।
বিশ্লেষকরা
জানিয়েছেন, গত বছরের তৃতীয়
প্রান্তিকে দেশটির ৭৯টি প্রতিষ্ঠান
তাদের লাভ্যাংশের ফলাফল ঘোষণা করে,
যেখানে দেখা যায় দ্বিতীয়
প্রান্তিকের তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা
বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। এছাড়া
বার্ষিক মুনাফা উন্নীত হয়েছে
৩৭০ কোটি ডলারে।
আগের বছরগুলোর তুলনায় জাপানের প্রায়
৬০ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান
মুনাফা করতে পেরেছে।
ফলে স্থানীয় বাজারে এর ইতিবাচক
প্রভাব পড়ছে বলে মনে
করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়
বাজারে অর্থনৈতিক বেশকিছু সুবিধা দেয়ায় জাপানে
সম্প্রতি বেড়েছে বিদেশী পর্যটকদের
সংখ্যা। এক্ষেত্রে
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সিঙ্গাপুরসহ
ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের জন্য
ঘড়ি, প্রসাধনী ছাড়াও বিভিন্ন বিলাসবহুল
পণ্যে করমুক্ত ক্রয় সুবিধা দিয়েছে
দেশটির সরকার। ফলে
বাজারে এসব পণ্যের বিক্রি
বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েক
গুণ। এতে
মুনাফা লাভে সন্তোষজনক অবস্থান
ফিরে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। এ
বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়
বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
তাকাশিমায়া জানান, চলতি প্রান্তিক
শেষে ৩৩ বছরের মধ্যে
সর্বোচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
দেশটির
স্থানীয় বাজারে গ্রাহক ও
পর্যটকদের চাহিদা থাকলেও গত
বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এ হার চলতি
বছর ও অব্যাহত থাকবে বলে মনে
করেন জে. ফ্রন্ট রিটেইলিংয়ের
প্রেসিডেন্ট তাতসুয়া ইয়োশিমোতো।
মহামারীর
প্রকোপে ভোক্তা ব্যয় ও
রফতানি কমে যাওয়ায় তার
আগের অর্থাৎ ওই বছরের
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বের
তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি
বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ
পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে।
তবে সম্প্রতি দেশটিতে বিদেশী পর্যটক বাড়ায়
এবং স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন পণ্যের
মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় সন্তোষজনক
অবস্থানে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ইউনিক্লোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংয়ের পরিচালন মুনাফা সেপ্টেম্বর-নভেম্বর প্রান্তিকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। যা উচ্চমূল্যের কারণে হয়েছে। গৃহস্থালীর সামগ্রী ও আসবাবপত্র বিক্রি বাড়ানোর জন্য একই প্রান্তিকে গ্রাহকদের ন্যূনতম ছাড় দিয়েছিল অ্যাপারেল কোম্পানি অ্যাডাস্ট্রিয়া।

0 Comments